মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি


কুড়িগ্রাম জেলার অধীনস্ত রাজারহাট উপজেলা। এই অবহেলিত রাজারহাট ছিলএকটিইউনিয়ন মাত্র। পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজন হেতু পাকিস্তান সরকার এখানেএকটিপুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেছিল। সত্তর এর আন্দোলনে সেটিও উঠিয়ে দেয়া হয়।পরেঅত্র এলাকার জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তদানিন্তন উলিপুর থানারচারটিইউনিয়ন এবং লালমনিরহাট থানার তিনটি ইউনিয়ন সহ মোট সাতটি ইউনিয়নেরসমন্বয়েরাজারহাট থানা গঠন করা হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজারহাটউপজেলারকার্যক্রম শুরু হয়। রাজারহাটের নাম কেন রাজারহাট হলো, তা নিয়েব্যাপক মতভেদথাকা সত্তেও কেউই সঠিক কারণটি বের করতে পারেননি। অনেকে বলেন১২শ শতকেরপ্রথম দিকে রংপুরে সেন বংশের রাজত্ব শুরু হয়। সেই বংশের রাজাছিলেন নীলধবজচন্দ্রধবজ ও নীলম্বর। শেষ রাজা ছিলেন খুব শক্তিশালী। তিনি অনেকযুদ্ধেজয়লাভ করেছিলেন। তার রাজধানী চতলা নামক স্থানে। এ চতলা বর্তমানেরাজারহাটউপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে ছিল নীলম্বরের দূর্গ।১৪১৮খৃষ্টাব্দে গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ আক্রমন করেন নীলম্বরের রাজ্য।তিস্তানদীর পাড়ে উভয় পক্ষের তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। এ যুদ্ধে রাজা নীলম্বরপরাজিতহয়ে আসামে পালিয়ে যায়। ধবংসপ্রাপ্ত হয় নীলম্বরের রাজধানী।নীলম্বরেরবিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সুলতান সুলতান হোসেন শাহের পুত্রনাসিরউদ্দিন আবুল মোজাফফর নশরত শাহ্। স্থানীয় লোকজন রাজার স্মৃতি ধরে রাখারজন্য এএলাকার নাম করণ করেছেন রাজারহাট। আবার অনেকের মতে তৎকালীন সময়েরাজারহাটবলে কোন স্থানের নাম ছিলনা। বৃটিশ আমলে তৈরী রেল লাইন দিয়ে ধীরগতিতে চলাচলকরত বাম্পীয় ইঞ্জিন বিশিষ্ট লেংটাগাড়ী। গাড়ী যে স্থানে থামত তারনাম ছিলপায়ামারী। এ পয়ামারীর পাশে ছিল দু একটি দোকান। পাঙ্গা রাজ বংশেরশেষ রাজাদেবেন্দ্র নারায়ন কোঙর মেকুটারী মৌজার প্রজাদের সাথে কুশল বিনিময়েরজন্যমাঝে মাঝে আসতেন। আস্তে আস্তে সেখানে দোকান পাট বাড়তে থাকে তারইফলশ্রুতিতেপাঙ্গা রাজার খাস জমিতে হাটটি লাগানো হয়। জায়গাটি পাঙ্গা রাজারহেতুহাটটির নাম করণ করা হয়েছে রাজারহাট। তথ্য সূত্র বয়ষ্ক লোকদেরসাক্ষাতকার,তোফায়েল হোসেন রচিত রঙ্গপুর জেলার ইতিহাস,মিঠু রচিত কুড়িগ্রামজেলার ইতিহাস,সে সময়কার প্রাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য।